নীতি তোমাকে ভালোবাসি


Poetry
নীতি তোমাকে ভালোবাসি

দক্ষিনের বারান্দায় মধ্যরাতের আধো আলো আধাঁরির মাঝে জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিশ্চুপ কবি।
দু’চোখ তার দূর মেঘলা আকাশের পানে অস্পষ্ট দৃষ্টি সীমানায়,
জীবনের এই ক্ষনে এক পরাজিত সৈন্যের অন্ধকার মুখ ভাসে,
নীতি আমি ছূড়েঁ ফেলে দেয়া আস্তাকুড়েঁর সেই পচা কবি।


আকাশের নীলিমা আর অন্ধকারকে তুমি যেমন সত্য মেনেছিলে
আমি তেমন সত্য মেনেছি্লাম সমুদ্রের বুকে তার গম্ভীর রুপকে।
কুহেলিকার জালে আবদ্ধ করে রেখেছি্লাম নিরেট বাস্তবতাকে
কখনও বলিনি আমি সমুদ্রগুপ্ত ঐ প্রতিচ্ছবিকে বুকে লালন করেছি শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্য।

পচা আমি এককোনে বসে এখন জাবর কাটি আর ভাবি কি নিয়ে তুমি আজ এত সুখে আছ।
আমার সব সত্যের বাতায়নের সুধা থেকে নীতি তুমি,
মধ্যরাতে আজ আমি একেবারে অসহায়, বড্ড নিশ্চুপ,
অস্ট্রিক শিশুর মত চিন্তাগুলো ওলটপালট হয়ে যায়।

পার না শুধু একবার বারিধারার মাঝে নীল শাড়ি পরে
মেরুন কালারের ছুড়ি হাতে দিয়ে আমার হাতটি ধরতে।
বাপ্পাদার “বৃষ্টি পড়ে”গানের সুরের মূর্ছনায় ভিজতে
নীতি আমার দু’চোখের নদীর দিকে একবার বলতে পার না “কবি তোমাকে ভালোবাসি”।

কবিতা প্রসঙ্গে

মধ্যরাতে দক্ষিণের বারান্দায় জ্বলন্ত সিগারেট হাতে এক নিশ্চুপ কবি — এই দৃশ্য দিয়ে কবিতার শুরু। «নীতি» এখানে একজন প্রিয় মানুষের নাম, আবার শব্দটির অর্থও মনে করিয়ে দেয়। কথক নিজেকে বলেন «পরাজিত সৈন্য», «আস্তাকুঁড়ের পচা কবি»; যাকে পাওয়ার জন্য তিনি বাস্তবকে কুয়াশায় ঢেকে রেখেছিলেন, সে এখন অন্য কোথাও সুখে আছে। বৃষ্টি, নীল শাড়ি আর বাপ্পা মজুমদারের «বৃষ্টি পড়ে» গানের উল্লেখ স্মৃতিকে নির্দিষ্ট করে তোলে। শেষের ছোট্ট চাওয়াটি — একবার শুধু শোনা, «কবি তোমাকে ভালোবাসি» — শিরোনামের উল্টো প্রতিধ্বনি।