চক্রকাল | Bengali Poem
চক্রকাল
শতস্বপ্নের তুলির আঁচড়ে জানুর বাবুই পাখির ঘর
ছানাগুলোর কলকাকলিতে জীবনটা ভীষণ সুন্দর।
ছাদ চুইয়ে আধাপাকা ঘরে বর্ষায় দুখের জলাধার
শাড়ির আচঁলে ছানাগুলোকে নিয়ে এককোনে,
মাঘে পাল্লাহীন দরজার কিনারে যুবথুব পরিবার
শরীর ছিঁড়াকাঁথার ওমে, কুঁড়ার খাকের আগুনে।
সতাতার উত্তাপ নিয়ে কালভেদ্রে হাজির হন কান্ত
রূপালী পূর্ণিমায় কিচিরমিচির গল্পে তিনি নন ক্লান্ত।
সন্তান অন্নসন্ধানে বেরিয়ে অন্যত্র বাঁধে নতুন নীড়
ঘোরে আচ্ছন্ন বিধবার মনে কালদেবের আমবস্যা,
চারদিকে সুবিশাল অট্টালিকা ভীড়ে বাড়ে আঁধার
রূপালি দেখা দেয় না, নিভৃত জানুর নীরব গোস্যা।
ছানাগুলো ফিরবে একদিন, গড়বে সুউচ্চ দালান
বিন্নীর পাঁয়েসে পূর্ণিমার সাথে হবে স্বর্গীয় মিলন।
কবিতা প্রসঙ্গে
«চক্রকাল» একজন মায়ের জীবনের ঋতুচক্রের গল্প। «জানু»-র বাবুই পাখির বাসার মতো ঘরে ছানাদের কলকাকলি, বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পড়া জল, মাঘের শীতে ছেঁড়া কাঁথার ওম — দারিদ্র্যের ভেতরেও সংসারের উষ্ণতা এখানে স্পষ্ট। সন্তানরা বড় হয়ে অন্নের খোঁজে অন্যত্র নীড় বাঁধে, আর বিধবা মা অট্টালিকার ভিড়ে একা হয়ে পড়েন। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার বৈপরীত্য দিয়ে কবি সুখ আর নিঃসঙ্গতার পালাবদল দেখিয়েছেন। শেষ স্তবকে ফিরে আসার আশা কবিতাটিকে শিরোনামের মতোই একটি চক্রে বেঁধে দেয়।

Comments
Post a Comment