গিনিপিগ | Bengali Poem

 

গিনিপিগ

গাবতলী থেকে মহাখালী কিংবা সায়েদাবাদ,

খুশির টানে আজ হাজারো গিনিপিগের আবাদ?

দুগ্ধশিশুর গরমে ত্রাহি চিৎকারে,

মায়ের বুক ফেটে যায় ধিক্কারে;

বাবাটির অসহায় দু'চোখ এদিক-সেদিক,

২০০ কে ৫০০ করেও হয় না কোন বিহিত।

ওরা টেনোলজি দেখে, টাকার গরম দেখে,

ফ্যামিলি নিয়ে জিপে করে ফেসবুক লিখে।

আমি মধ্যবিত্ত হিসাব কষে কষে,

নিজেকে থাপ্পর দেই জোরে কষে।

লাল রঙ নীল হবে যখন,

বাড়ী যাব না হয় তখন।

সেলাই দিদি-ভাইগুলো ট্রাকের চড়ে উদ্বাস্তুর মত

পদ্মা-মেঘনা-যমুনা যদি পার করা যায় কোনমত!

হাজার মানুষকে জিম্মি করি,

শুয়োরের পকেট ভার করি।

কবিতা প্রসঙ্গে

কবিতাটির পটভূমি ঢাকার গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, যেখানে ঘরমুখো মানুষ বাড়তি ভাড়া আর ভোগান্তির কাছে অসহায়। «গিনিপিগ» শব্দটি দিয়ে কবি বোঝান, সাধারণ যাত্রীরা যেন পরীক্ষাগারের প্রাণী — তাদের কষ্ট নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। শিশুর কান্না, অসহায় বাবা, ২০০ টাকার ভাড়া ৫০০ হয়ে যাওয়া, ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফেরা পোশাকশ্রমিক — প্রতিটি ছবি বাস্তব থেকে নেওয়া। মধ্যবিত্ত কথকের «নিজেকে থাপ্পড়» দেওয়ার মধ্যে আছে ক্ষোভ ও আত্মগ্লানি; শেষ দুই লাইনে সেই ক্ষোভ সরাসরি মুনাফালোভীদের দিকে ফেরে।

Comments