যে কোন জাতীয় নীতি তৈরি করতে গেলে তা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করতে হয়। এই নীতিগুলো সাধারণত কোন নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এক বা একাধিক গভর্নিং বডির গবেষণায় তৈরি হয়। তবে কোন ভুল সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অভিভাবককেই কথা শুনতে বা দায় নিতে হয়। উল্লেখ্য, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন কিন্তু সবাই মিলেই করেন।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে মাননীয় নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী হবার পর ঐ বছরই প্রথমবারের মত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ২০০৯ এবং পরবর্তী বছরে ২০১০ এ জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা শুরু হয়। উল্লেখ্য, তড়িঘড়ি করে কবীর চৌধুরী শিক্ষা কমিটি ২০০৯ যে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা ২০১০ তৈরি করে তাতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষার জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা ছিল। খুব স্বভাবতই যে কোন দেশের শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষা নীতিমালাকেই অনুসরণ করবে। কিন্তু এই পরীক্ষাগুলো প্রত্যেক মহলেই অসন্তোষ তৈরি করে। মাননীয় মন্ত্রী তা বুঝতে পেরেছেন বলেই, পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন - কিন্তু কিভাবে করেছেন? এই অধ্যায়টুকু মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টরাই ভালো জানেন। গনমাধ্যমে তেমন কোন বক্তব্য আসেনি। মজার বিষয় যে, আগামী বৎসর নতুন শিক্ষাকার্যক্রমে পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো শুরু হবে যার অনেক কাজই ২০১৩ সালে সম্পন্ন করা আর তার পরিমার্জন ও পরিবর্ধিতরূপ আমরা ২০২৩ সাল থেকে দেখব। যদি ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির বড় কোন ভুল বলি, পিএসসি এবং জেএসসি উল্লেখযোগ্য। এই ভুলকে পাশ কাটিয়ে যাই, সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাব্যবস্থায় শেষ চেষ্টার ফলাফল আগামী বৎসর থেকে দেখা শুরু করবে।

বর্তমান সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ যে, একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশনের কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে । জাতীয় শিক্ষানীতির ১২ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে। প্রায় অচল এই শিক্ষানীতি পরিবর্তন করে একটি যুগোপযুগী জাতীয় শিক্ষানীতি এখন সময়ের দাবি।

No comments

Thanks for your comment.