লাল জামা



সূর্যকে বড় বেশী চেনা শৈশব থেকে ,
লাল জামা পড়ে সকালে চলে আসত ,
লাল জামা পড়েই আবার চলে যেত ,
আজ অবধি কোন অনিয়ম করেনি ,
আমাকে বড্ড বেশী ভালোবাসে, না !

আজও তোমার ক্লান্তি নেই |
নেই অভিযোগের নামটিও|

শুনেছি, হারালেই মানুষ বেদনা বুঝে ,
আমারও বুঝি ঠিক যেন তেমন হচ্ছে ,
লাল শাড়ি পড়ে এসেছিল পুকুড় পাড়ে ,
লাল শাড়ি্টি পড়েই আবার চলে গেল ,
পিছনে ফিরে একটি বারও তাকাই নি !

অশ্রুবারি নেমেছে অঝোরে |
হৃদয়ের মাঝে হয়েছে ভাঙন |

এখন আর কাউকেই তেমন ভাবি না ,
যেমনটা পাগলের মতই বেসেছিলাম ,
কচুপাতার জল টুপ করেই চলে যায় ,
যাবার বেলায় মনে রাখেনা সে কিছু ,
আমিও ভাবছি সব কিছুই ভুলে যাব !

জানি একজন আমার আছে|
শৈশব থেকে লাল জামাতে |

কবিতা প্রসঙ্গে

কবিতাটি দুটি «লাল»-কে পাশাপাশি রাখে। একদিকে সূর্য — শৈশব থেকে চেনা, লাল জামা পরে রোজ আসে ও যায়, কখনও অনিয়ম করে না। অন্যদিকে লাল শাড়ি পরা একজন মানুষ, যে একবার এসে চলে গেছে এবং ফিরে তাকায়নি। কচুপাতার জল যেমন টুপ করে গড়িয়ে পড়ে, তেমনই তার চলে যাওয়া। হারানোর বেদনা স্বীকার করেও কথক শেষে সান্ত্বনা খুঁজে পান সেই অবিচল সঙ্গীর কাছে — «জানি একজন আমার আছে, শৈশব থেকে লাল জামাতে»।