কেমন বৃষ্টি ঝরে || জীবনানন্দ দাশ || কবিতা আবৃত্তি
কেমন বৃষ্টি ঝরে
- জীবনানন্দ দাশ
কেমন বৃষ্টি ঝরে—মধুর বৃষ্টি ঝরে—ঘাসে যে বৃষ্টি ঝরে—রোদে যে বৃষ্টি ঝরে আজ
কেমন সবুজ পাতা—জামীর সবুজ আরও—ঘাস যে হাসির মতো—রোদ যে সোনার মতো ঘাসে
সোনার রেখার মতো—সোনার রিঙের মতো—রোদ যে মেঘের কোলে—তোমার গালের টোলে রোদ
তোমার চুলে যে রোদ—মেঘের মতন চুলে—তোমার চোখে যে রোদ—সেও যে মেঘের মতো চোখ
আকাশে সোনালি চিল পাখনা ছড়ায়ে কাঁদে—(এমন সোনালি চিল)—সোনালি রেণুর মতো ঝরিছে কান্না আহা, মিশরে শুনেছি যেন কবে
আকাশে এমন ছেঁড়া ময়লা মেঘের রাশ—পড়েছে তাদের ছায়া নীলের ঘোলা জলে নিঝুম পিরামিডে
এমনই সোনালি রোদ—সোনার থামের মতো—ঘিয়ের শিখার মতো রয়েছে আকাশ ছিঁড়ে তবু
কেঁদেছে সোনালি চিল এমনই আকাশ ঘুরে—শুনেছি মিশরে আমি হাজার হাজার যুগ আগে
তোমার চুলে যে রোদ—মেঘের মতন চুলে—তোমার চোখে যে রোদ—সেও যে মেঘের মতো চোখ
কেমন বৃষ্টি ঝরে—মধুর বৃষ্টি ঝরে—ঘাসে যে বৃষ্টি ঝরে—রোদে যে বৃষ্টি ঝরে আজ
কবিতা প্রসঙ্গে
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯–১৯৫৪) বাংলা কবিতায় প্রকৃতির নিবিড় ছবির জন্য স্মরণীয়; তাঁকে «রূপসী বাংলার কবি» বলা হয়। এই কবিতায় বৃষ্টি কোনো ঘটনা নয়, একটি অনুভূতি: একই শব্দবন্ধ — «বৃষ্টি ঝরে» — বারবার ফিরে এসে বৃষ্টির টুপটাপ ছন্দ তৈরি করে। ঘাস, রোদ আর সবুজ পাতার সঙ্গে হাসি ও সোনার তুলনা জীবনানন্দের চেনা ভঙ্গি, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের মন আলাদা করা যায় না। আবৃত্তির সময় এই পুনরাবৃত্তিগুলোই কবিতার সুর ধরে রাখে।
Comments
Post a Comment